শিক্ষক প্রতিনিধি

সহকারী শিক্ষক

জনাব মোহাম্মদ আজিজ মিয়া

একজন মানুষ যতই শিক্ষিত হোক না কেন, তার মধ্যে যদি নৈতিকতা বোধ না থাকে, তাহলে তার মধ্যে পরিপূর্ণ মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে না। তার দ্বারা সমাজে আর যাই হোক, ভালো কিছুর আশা করা যায় না। একজন শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষের দ্বারা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা সংঘটিত হয়; কিন্তু একজন নৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের দ্বারা কখনোই অপরাধ বা সমাজে ঘৃণ্য কার্যকলাপ ঘটা সম্ভব নয়। নৈতিকতার জন্য কখনো কাউকে অপরাধী করা যায় না। তাই এটি জোরপূর্বক কাউকে শোধরানো যায় না। যেমন, আমি যদি কোনো মানুষকে হত্যা করার মতো অপরাধ করি, তাহলে আমাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে; কিন্তু আমার কাছে কেউ সাহায্য চাইলে যদি সামর্থ্য থাকার পরও না দেই, তাহলে আমাকে কেউ আইনানুগভাবে কোনো সাজা বা দোষ দিতে পারবে না। আমার সামর্থ্য ছিল কিন্তু আমি সাহায্য করিনি, করলে সেই ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের কাজে নিজেকে শামিল করতে পারতাম। নৈতিক শিক্ষার এই অভাবের কুফল আমরা পাচ্ছি, সমাজ পাচ্ছে। সমাজে বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা তৈরি হচ্ছে, যেমন-ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, শিশু হত্যা, এমনকি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য নিজের মা-বাবাকে মারধর অথবা হত্যা করার মতো অপরাধও এখন ঘটছে। একজন শিক্ষক, যিনি জাতির মেরুদণ্ড তৈরি করবেন, তার কাছ থেকেও এমন আচরণ পেলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? তার কিন্তু একাডেমিক শিক্ষা আছে; কিন্তু নৈতিক শিক্ষা নেই বিধায় এহেন অপরাধ করতে তার বিবেকে বাধেনি। এ থেকেই বোঝা যায়, শুধু পাঠ্যশিক্ষা অর্জন করলেই হবে না, প্রকৃত মানুষ হতে হলে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই আসুন এ সমাজকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করি।